দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
Dhaka Story
প্রকাশ : Aug 6, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার ঘোষণা শেখ হাসিনার: দিল্লিতে বিস্ফোরক প্রেস কনফারেন্স

শেখ হাসিনা ভারতে সংবাদ সম্মেলন

নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে অবশেষে দেশে ফেরার স্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জানান, দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ফিরিয়ে আনতে আগামী বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই তিনি বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তন করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের নানা তীক্ষ্ণ প্রশ্নের জবাবে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তাঁর নিরাপত্তা, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং বিগত আন্দোলনের সহিংসতা নিয়ে খোলামেলা বক্তব্য দেন তাঁরা।

গ্রেপ্তার ও প্রাণনাশের ঝুঁকি সত্ত্বেও ফেরার সিদ্ধান্ত: সংবাদ সম্মেলনে সরাসরি প্রশ্ন করা হয় দেশে ফিরলে বর্তমান প্রশাসন তাঁকে গ্রেপ্তার করার কথা বলেছে, এই অবস্থায় তাঁর পরিকল্পনা কী? জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, "১৯৮১ সালে যখন দেশে ফিরি, তখনও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আমাকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন। ১৯৮৩, ১৯৮৫, ১৯৮৭ এবং ২০০৭ সালেও আমাকে রোখার চেষ্টা হয় ও গ্রেপ্তার করা হয়। আমি জানি এবারও আমাকে জেলে পাঠানো হতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলা হতে পারে। তবে বাংলাদেশের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার ও বিচার পাওয়ার অধিকার ফিরিয়ে দিতে আমি ফিরবই। ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস, আর এই ডিসেম্বরেই আমি দেশে পা রাখতে চাই।"

সহিংসতার দায় ও ক্ষমা প্রার্থনা ইস্যুতে জয়ের প্রতিক্রিয়া: জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে নিহত আন্দোলনকারীদের পরিবার ও সহিংসতার ঘটনায় আওয়ামী লীগ দুঃখপ্রকাশ বা ক্ষমা চাইবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতিতে ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। কারণ এই সরকার পুলিশ সদস্য, সাধারণ নাগরিক এবং আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হওয়া হত্যাকাণ্ডগুলোকে আইনি দায়মুক্তি (Indemnity) দিয়ে রেখেছে। একতরফা হত্যাকাণ্ডকে যখন বৈধতা দেওয়া হচ্ছে, তখন কার কাছে ক্ষমা চাইব? যেদিন সকল হত্যাকাণ্ডের সমতাভিত্তিক বিচার হবে এবং পুলিশ ও নেতাকর্মী হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে, সেদিনই কেবল দুঃখপ্রকাশের আলোচনা হতে পারে।"

ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান ও ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা: শেখ হাসিনাকে বর্তমানে ভারতে রাষ্ট্রপ্রধানের (Head of State) সমমর্যাদা, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা এবং সুযোগ-সুবিধা দিয়ে রাখা হয়েছে জানিয়ে সজীব ওয়াজেদ জয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে তিনি বলেন, "ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য বাণিজ্য বৃদ্ধি করা, মানবধিকার বা রাজনৈতিক ইস্যু নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি পরিবর্তনশীল, আজ যাদের সমর্থন দেখা যাচ্ছে কাল পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে।"

সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে শেখ হাসিনা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, দেশে এখন চরম রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও নিপীড়ন চলছে। দেশের স্বাধীনতা ও ঐতিহ্য রক্ষায় তিনি সব ধরনের ঝুঁকি নিয়ে জনগণের মাঝে ফিরে আসতে বদ্ধপরিকর।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ: কড়া নজর রাখছে ভা

1

প্রথম কর্মদিবসে বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম

2

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন

3

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

4

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত হলেন রুহুল কবির রিজভী

5

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী মোনালিসার ৩ দিনের রি

6

১৪ বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইসিএবির চুক্তি স্বাক্

7

অবৈধ সম্পদ ও তথ্য গোপন: টেকনাফের সাবেক ইউপি সদস্য ও বাবার কা

8

বাবার মৃত্যুর পর প্রথম গোল, অশ্রুসিক্ত চোখে বাবাকে স্মরণ করল

9

এএইউবির ২১তম সিন্ডিকেট সভা: এভিয়েশন ও মহাকাশ গবেষণায় জোর উপা

10

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে জামায়াত আমিরের অভিনন্দ

11

৩৫ বছর পর ভোটে নির্বাচন: বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফ

12

বিভাগীয় কমিশনারসহ ৩ জেলার ডিসিকে প্রত্যাহার করল সরকার

13

নওগাঁয় যুবলীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ গ্রেপ্তার

14

গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২১ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার, আটক

15

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়, উত্তরাধিকার সূত্

16

বিএনপির জনপ্রিয়তার মূল কারিগর খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল

17

১০ বছর মেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা আসছে সংসদে: প্রধানমন্ত্রী ত

18

মানবতাবিরোধী অপরাধ: কাদের-সাদ্দামসহ শীর্ষ ৭ নেতার সর্বোচ্চ শ

19

সালমান শাহ হত্যা মামলা: কারাগারে যাওয়ার তিন দিনের মাথায় ডনের

20