দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
Mohammad Sujan
প্রকাশ : Jul 26, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসের চরম ঝুঁকি: মৃত্যুফাঁদে বসবাস ৫৯০ পরিবারের

টানা বর্ষণে খাগড়াছড়িতে পাহাড় ধসের চরম ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার ৬০টির বেশি এলাকা ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে জেলা প্রশাসন। এসব এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে চরম আতঙ্কে দিন পার করছে অন্তত ৫৯০টি পরিবার

উপজেলার চিত্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের সংখ্যা

প্রশাসনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পাহাড়ের ঢালে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে বহু মানুষ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার ২৬০টি পরিবার

এছাড়া মানিকছড়িতে ১০৫টি, খাগড়াছড়ি সদরে ৮৬টি, মহালছড়ি ও রামগড়ে ৫৬টি করে এবং পানছড়িতে ২৭টি পরিবার পাহাড় ধসের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। পাশাপাশি রামগড়ের পাতাছড়া বাজারের ১৫টি দোকানও যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে।

এর বাইরে মাটিরাঙ্গা, গুইমারা ও দীঘিনালা উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকাকেও অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে সতর্ক করেছে প্রশাসন।

সাম্প্রতিক ধস ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা

চলতি বর্ষা মৌসুমে জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে ইতোমধ্যে শতাধিক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। খাগড়াছড়ি পৌরসভার সবুজবাগ ও শালবাগান এলাকায় পাহাড় ধসে বেশ কয়েকটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারের ঘর মেরামতে ব্যক্তিগতভাবে সহযোগিতা করেছেন খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইঁয়া।

পাহাড় ধসের কারণে মহালছড়ি-জালিয়াপাড়া সড়কে মাটি পড়ে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে সড়ক ও জনপথ বিভাগের হস্তক্ষেপে মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়। এছাড়া খাগড়াছড়ি-দীঘিনালা সড়কের কয়েকটি স্থানেও বড় ধরনের ধসের ঘটনা ঘটেছে।

বাসিন্দাদের শঙ্কা ও প্রশাসনের উদ্যোগ

পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের চোখে এখন শুধুই আতঙ্ক। খাগড়াছড়ি পৌর এলাকার শালবাগানের বাসিন্দা আলী হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, "প্রতিবছর বর্ষায় পাহাড় ধসে আমাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই, তাই বাধ্য হয়ে আতঙ্কের মধ্যেই বসবাস করতে হচ্ছে।" নিজেদের সুরক্ষায় দ্রুত রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

একই এলাকার বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, "জীবনের সব সঞ্চয় দিয়ে বাড়ি করেছি, এখন অন্য কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই।"

খাগড়াছড়ি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জসিমউদ্দীন মজুমদার মনে করেন, শুধু তালিকা করলেই সমাধান হবে না; ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে।

সার্বিক বিষয়ে খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত জানান, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে নিয়মিত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তবে অনেকেই পুনরায় সেখানে ফিরে যাচ্ছেন। প্রশাসন বিপজ্জনক স্থানে বসবাস ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং তাদের স্থায়ী পুনর্বাসনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ: কড়া নজর রাখছে ভা

1

প্রথম কর্মদিবসে বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম

2

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন

3

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

4

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত হলেন রুহুল কবির রিজভী

5

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী মোনালিসার ৩ দিনের রি

6

১৪ বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইসিএবির চুক্তি স্বাক্

7

অবৈধ সম্পদ ও তথ্য গোপন: টেকনাফের সাবেক ইউপি সদস্য ও বাবার কা

8

বাবার মৃত্যুর পর প্রথম গোল, অশ্রুসিক্ত চোখে বাবাকে স্মরণ করল

9

এএইউবির ২১তম সিন্ডিকেট সভা: এভিয়েশন ও মহাকাশ গবেষণায় জোর উপা

10

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে জামায়াত আমিরের অভিনন্দ

11

৩৫ বছর পর ভোটে নির্বাচন: বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফ

12

বিভাগীয় কমিশনারসহ ৩ জেলার ডিসিকে প্রত্যাহার করল সরকার

13

নওগাঁয় যুবলীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ গ্রেপ্তার

14

গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২১ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার, আটক

15

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়, উত্তরাধিকার সূত্

16

বিএনপির জনপ্রিয়তার মূল কারিগর খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল

17

১০ বছর মেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা আসছে সংসদে: প্রধানমন্ত্রী ত

18

মানবতাবিরোধী অপরাধ: কাদের-সাদ্দামসহ শীর্ষ ৭ নেতার সর্বোচ্চ শ

19

সালমান শাহ হত্যা মামলা: কারাগারে যাওয়ার তিন দিনের মাথায় ডনের

20