দ্রুত লিংক
বিভাগসমূহ
মিডিয়া বিভাগ
Dhaka Story
প্রকাশ : Jul 5, 2026 ইং
অনলাইন সংস্করণ

যন্ত্রপাতি সংকটে অচল নীলফামারীর ১১ কোটির বর্জ্য শোধনাগার

নীলফামারী পৌরসভার প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ফিকাল স্লাজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এফএসটিপি) উদ্বোধনের কয়েক বছর পার হলেও এখনও পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি ও কারিগরি জনবলের অভাবে মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনার এই বিশেষায়িত প্রকল্পটি কাঙ্ক্ষিত সুফল দিতে পারছে না। ফলে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জৈবসার উৎপাদন ও নতুন আয়ের উৎস সৃষ্টির যে পরিকল্পনা ছিল, তা ভেস্তে যেতে বসেছে।

পৌরসভা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, পরিকল্পিত স্যানিটেশন ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ২০২৩ সালে প্রায় ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ দশমিক ৮৯ একর জমির ওপর এই এফএসটিপি বা বর্জ্য শোধনাগারটি নির্মাণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, শহরের বিভিন্ন বাসাবাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে বিশেষায়িত ভ্যাকুয়াম ট্যাংকারের মাধ্যমে সংগৃহীত মানববর্জ্য সেখানে নিয়ে পরিবেশসম্মত উপায়ে শোধন করার কথা ছিল। এতে খোলা স্থানে বর্জ্য ফেলার প্রবণতা হ্রাসের পাশাপাশি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে বর্তমানে এটি কেবল বর্জ্য স্তূপ করে রাখার একটি ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলতাফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এখানে যে ময়লাগুলো এনে ফেলা হয়, সেগুলো পরিশোধন করার কথা থাকলেও তা কখনো করা হয়নি। এখন এটি কেবল একটি বিশাল ময়লার স্তূপ হয়ে পড়ে আছে।” আরেক বাসিন্দা হাসান আলী জানান, এখান থেকে জৈব সার তৈরির কথা থাকলেও বাস্তবে কিছুই হচ্ছে না, উল্টো চারদিকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।

প্রকল্পটির পূর্ণ সুফল না পাওয়ার পেছনে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য আলাদা করার আধুনিক যন্ত্রপাতির সংকট। নীলফামারী পৌরসভার কনজারভেন্সি কর্মকর্তা আব্বাস আলী জানান, ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের পর থেকে সেখানে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। শুরুতে কয়েকজন নারী শ্রমিক হাত দিয়ে প্লাস্টিক আলাদা করার কাজ করতেন। কিন্তু বিভিন্ন ধরনের মিশ্র বর্জ্য থেকে হাত দিয়ে প্লাস্টিক পৃথক করা অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ। তাই এই কাজের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন।

পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক রেজা বলেন, পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য সফলভাবে আলাদা করা গেলে পচনশীল অংশ থেকে জৈবসার উৎপাদন করা সম্ভব। এতে যেমন কৃষিতে এর ব্যবহার বাড়বে, তেমনি পৌরসভার জন্য আয়ের একটি নতুন খাত তৈরি হবে।

নীলফামারী পৌরসভার প্রশাসক সাইদুল ইসলাম সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন, বর্জ্য রিসাইক্লিংয়ের মূল উদ্দেশ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলেও প্রয়োজনীয় কারিগরি লোকবল ও আধুনিক মেশিনারিজের অভাবে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া সংগৃহীত বর্জ্যের প্রায় ৯৫ শতাংশই প্লাস্টিক হওয়ায় সেগুলো আলাদা করা বর্তমানে অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও শ্রমসাপেক্ষ হয়ে পড়েছে।

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশের আগ্রহ: কড়া নজর রাখছে ভা

1

প্রথম কর্মদিবসে বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম

2

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন

3

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম

4

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত হলেন রুহুল কবির রিজভী

5

সাবেক প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী মোনালিসার ৩ দিনের রি

6

১৪ বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আইসিএবির চুক্তি স্বাক্

7

অবৈধ সম্পদ ও তথ্য গোপন: টেকনাফের সাবেক ইউপি সদস্য ও বাবার কা

8

বাবার মৃত্যুর পর প্রথম গোল, অশ্রুসিক্ত চোখে বাবাকে স্মরণ করল

9

এএইউবির ২১তম সিন্ডিকেট সভা: এভিয়েশন ও মহাকাশ গবেষণায় জোর উপা

10

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে জামায়াত আমিরের অভিনন্দ

11

৩৫ বছর পর ভোটে নির্বাচন: বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফ

12

বিভাগীয় কমিশনারসহ ৩ জেলার ডিসিকে প্রত্যাহার করল সরকার

13

নওগাঁয় যুবলীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মাসুদ গ্রেপ্তার

14

গাজায় ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ২১ ফিলিস্তিনির মরদেহ উদ্ধার, আটক

15

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট বর্তমান সরকারের তৈরি নয়, উত্তরাধিকার সূত্

16

বিএনপির জনপ্রিয়তার মূল কারিগর খালেদা জিয়া: মির্জা ফখরুল

17

১০ বছর মেয়াদি জ্বালানি পরিকল্পনা আসছে সংসদে: প্রধানমন্ত্রী ত

18

মানবতাবিরোধী অপরাধ: কাদের-সাদ্দামসহ শীর্ষ ৭ নেতার সর্বোচ্চ শ

19

সালমান শাহ হত্যা মামলা: কারাগারে যাওয়ার তিন দিনের মাথায় ডনের

20